1. admin@dainiksamakal.com : Dainik Samakal admin :
রবিবার, ২৫ জুলাই ২০২১, ০৭:৫২ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
নোটিশঃ

ফরিদপুরে “জয় নারী কল্যাণ সংঘের” ব্যানারে জমজমাট নারী ব্যবসা

  • Update Time : সোমবার, ২৯ মার্চ, ২০২১
  • ২২৮ Time View

ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুর মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের নিবন্ধন নিয়ে রথখোলা যৌন পল্লীতে “জয় নারী কল্যাণ সংঘের” (সরকারি নিবন্ধন নং মবিঅ- ২৭৫/০৫) অনেক নেতৃবৃন্দ অর্ধশতাধিক কৃতদাসী দিয়ে দেহ ব্যবসা করাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পৌর শহরের রথখোলা সড়কে অবস্থিত এ সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ে বসেই নারী নেত্রীরা যৌন পল্লীর অর্ধশতাধিক যৌনকর্মীকে সরাসরি/অদৃশ্য নিয়ন্ত্রণ করছে। পল্লীর অর্ধ শতাধিক যৌনকর্মীর লিখিত অভিযোগে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

ভুক্তভোগীরা অতি সম্প্রতি এ বিষয়ে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার বরাবরে প্রেরণকৃত এক পত্রে এ সব অভিযোগ করেন।

অভিযোগ মতে, জয় নারী কল্যাণ সংঘের নেতৃবৃন্দ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ভাল কাজ দেবার কথা বলে ৭০/৮০ হাজার টাকা দিয়ে বিভিন্ন বয়সী মেয়েদের কিনে আনে। এখানে এনে একপ্রকার জোরপূর্বক তাদেরকে যৌন পেশায় লিপ্ত হতে বাধ্য করে। এ সমস্ত মেয়েদের উপার্জনের সমূদয় অর্থই নিয়ে যায় কথিত সর্দারনী অথবা নারী নেত্রীরা। দিনরাত যৌন কাজ করার পর এসব মেয়েদের ভাগ্যে জোটে তিন বেলা খাবার এবং পোষাক-আষাক। প্রতিদিন মোটা অংকের টাকা আয় করে দিতে না পারলেই এসব মেয়েদের ভাগ্যে জোটে অ-মানুষিক নির্যাতন।

কিনে আনা এসব মেয়েরা বন্দিদশা থেকে যাতে পালিয়ে যেতে না পারে, সেজন্য দিনে এদেরকে পাহারা দিয়ে এবং রাতের বেলা ঘরে তালা মেরে রাখা হয়। এছাড়া জয় নারী কল্যাণ সংঘের নেতৃবৃন্দ যৌন পল্লীর ২/৩ শত মেয়ের কাছ থেকে প্রতিদিন ২০/৩০ টাকা করে চাঁদা উঠায়।অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, বিগত ১২/১৪ বছর ধরে তোলা টাকাগুলি কোথায় গেল? তারও কোন হদিস নেই।

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী “জয় নারী কল্যাণ সংঘ” নামের এই প্রতিষ্ঠানে প্রতি দু’বছর অন্তর অন্তর নির্বাচন হবার কথা থাকলেও সভানেত্রী আলেয়া বেগম ৮/১০ ধরেই একই পদে রয়ে গেছেন। জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর “জয় নারী কল্যাণ সংঘ”কে নিবন্ধন করলেও এদের কার্যক্রমে তাদের কোন ধরনের তদারকি না থাকায় এরা পুরোপুরী বে-পরোয়া ভাবেই এদের অবৈধ কাজগুলো বিনা বাঁধায় করে যাচ্ছে।

পুলিশ সুপারকে দেয়া অভিয়োগ থেকে আরও জানা য়ায়, বর্তমানে সভানেত্রী আলেয়া বেগমের বন্দিশালায় রয়েছে ২ জন মেয়ে, সহ-সভানেত্রী তানিয়া আক্তারের কাছে ৬ জন, সাধারণ সম্পাদিকা শিউলির কাছে ২ জন, সহ-সাধারণ সম্পাদিকা নাজমার কাছে ৫ জন, অর্থ-সম্পাদিকা সুফিয়ার কাছে ৪ জন, অপর নেত্রী সানুর কাছে ৩ জন, নারী নেত্রী পপির কাছে ১ জন, নেত্রী সালমার কাছে ১ জন মেয়ে বন্দী রয়েছে। সম্প্রতি সালমা ঐ মেয়েটিকে হিজড়া গোপালের (নিশি) নিকট ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিয়েছে। এছাড়া সভানেত্রী আলেয়াকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নজরানা দিয়ে নারী ব্যবসা করছে যৌন পল্লীর বিভিন্ন ছোটখাটো সর্দারনীরা। এদের মধ্যে পুরপুরীর বন্দীশালায় ৩ জন, রুসীর নিকট ৮ জন, আন্জুর নিকট ৫ জন, বৃষ্টির কাছে ৪ জন, জোসনার নিকট ৪ জন, কালীর নিকট ৩ জন, সাগরীর নিকট ৩ জন মেয়ে বন্দি রয়েছে। “জয় নারী কল্যান সংঘ” নেত্রীবৃন্দ এসকল মেয়েদের উপার্জিত অর্থ দিয়েই নিজেরা দিনে দিনে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হচ্ছে।

এ বিষয়ে জেলা মহিলা বিষয়ক অফিসের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক মাশউদা হোসেন বলেন, অভিযোগ সম্পর্কে আমাদের জানা নেই। তবে নারী কল্যানের নামে সেখানে কি হচ্ছে? তা খতিয়ে দেখা হবে।

সচেতন ফরিদপুরবাসী অসহায় এসকল মেয়েদের “জয় নারী কল্যাণ সংঘের” নেত্রীদের বন্দিশালা থেকে উদ্ধার ও স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আশু ও কার্যকরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Comments are closed.

More News Of This Category
© All rights reserved © 2021 Coder Boss
Design & Develop BY Coder Boss